শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে মহাসড়কের খালি জায়গায় সাইনবোর্ড দুটি টাঙানো হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা–বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কের ফোরলেনের জন্য নির্ধারিত জায়গার একটি অংশ দখল করে সাহান আরা পার্ক নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ তাঁর প্রয়াত মায়ের স্মরণে পার্কটি নির্মাণ করেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মহাসড়কের জায়গা উন্মুক্ত করা এবং নগরীর যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পার্কটি উচ্ছেদ করে বর্তমান সিটি করপোরেশন প্রশাসন।
সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কটি উচ্ছেদের কয়েক মাসের মাথায় মহাসড়কের ওই খালি জায়গায় নতুন করে দুটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে সরকারি জায়গা ফের দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পার্কটি উচ্ছেদের পর চৌমাথা এলাকায় যানজট অনেকটাই কমে আসে। একই সঙ্গে সড়কের ওপর চলাচলও তুলনামূলক স্বাভাবিক হয়। এখন উচ্ছেদ করা জায়গায় আবার স্থাপনা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে আগের মতো যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বরিশাল নাগরিক সমাজ কমিটির আহ্বায়ক কাজী মিজানুর বলেন, “এটি সরকারি জায়গা। সড়ক বিভাগের অবহেলার কারণেই উচ্ছেদ হওয়া জায়গায় পুনরায় সাইনবোর্ড টাঙানোর সাহস পেয়েছে একটি মহল। সরকারি জায়গা রক্ষায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, সড়কের ওই জায়গায় সাইনবোর্ড লাগানোর বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দ্রুত সাইনবোর্ডগুলো অপসারণ করা হবে।
তিনি বলেন, “ওই জায়গায় চলতি অর্থবছরেই বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।”
সড়ক বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাসুদ খান বলেন, বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে শিগগিরই বরিশাল সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।
এদিকে, ‘আল হাবিব টেইলার্স’ ও ‘গার্ডিয়ান কোচিং সেন্টার’-এর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে নতুন করে দখলের কোনো সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না—তা দ্রুত খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।