পটুয়াখালীর বাউফলে দুই বছর মেয়াদি ঋণ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিমা ও সঞ্চয়ের নামে টাকা নেওয়ার পর ‘সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সংস্থা’ নামের একটি কথিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির লোকজন কয়েক লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন।
বাউফল পৌরসভার মুসলিমপাড়া মোড় এলাকায় সাবেক আশা ব্যাংকের জালাল আহমেদের ভবনে অফিস দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করেছিল বলে জানান ভুক্তভোগীরা। ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সঞ্চয় ও বিমার নামে টাকা সংগ্রহ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাবেয়া বেগমের কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা, বাবুল সিপাইয়ের কাছ থেকে ১১ হাজার, মাসুদুর রহমানের ২০ হাজার, মলিন্দ্রের ২০ হাজার, মনু বেগমের ১২ হাজার, তাসলিমা বেগমের ১১ হাজার এবং আব্দুল আজিজের দুই নামে ৩৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেকের কাছ থেকেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ঋণ দেওয়ার কথা বলে ডেকে অফিস ফাঁকা
ভুক্তভোগীরা জানান, দুই বছরের মেয়াদে ঋণ দেওয়ার কথা বলে রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে সবাইকে অফিসে আসতে বলা হয়। ঋণ বিতরণের প্রস্তুতি হিসেবে ডেকোরেটর ভাড়া করে চেয়ার-টেবিলও আনা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে ভুক্তভোগীরা অফিসে গিয়ে কাউকে দেখতে পাননি। এর আগেই কথিত সংস্থার লোকজন অফিস ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘সমাজ কল্যাণ সংস্থা’ নামে একজন মাঠকর্মী তাদের ঋণ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। রোববার সকাল ১০টার মধ্যে সঞ্চয়ের টাকা জমা দিতে এবং দুপুর ৩টায় ঋণের টাকা দেওয়ার কথা ছিল। চার লাখ টাকা ঋণের জন্য তিনি দুই নামে ৩৭ হাজার টাকা দিয়েছেন। পরে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
আরেক ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগম জানান, দুই বছর মেয়াদে ঋণ দেওয়ার কথা বলে ওই প্রতিষ্ঠানের লোকজন তাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। এক লাখ টাকা ঋণ নিলে মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে পরিশোধ করতে হবে এবং এজন্য ১১ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে এক হাজার টাকা বিমা ও ১০ হাজার টাকা সঞ্চয়ের জন্য নেওয়া হয়।
রাবেয়া বেগম বলেন, অফিস উদ্বোধনের দিনই ঋণের টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। গাড়ি কেনার প্রয়োজন থাকায় তিনি ঋণের আশায় টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু টাকা নিতে গিয়ে জানতে পারেন, সংস্থার লোকজন অফিস ছেড়ে চলে গেছেন।
বাড়ির মালিকেরও নেই কোনো কাগজপত্র
প্রতিষ্ঠানটির অফিস হিসেবে ব্যবহৃত ভবনের মালিক জালাল আহমেদের স্ত্রী সৈয়দা শৈলী জানান, শনিবার একজন ব্যক্তি বাড়ি ভাড়া নেওয়ার জন্য এসেছিলেন। মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাড়া এবং দুই লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়ার বিষয়ে কথা হয়। রোববার দুপুর ১২টার দিকে চুক্তিপত্র করার কথা ছিল। একই দিন অফিস উদ্বোধনেরও আয়োজন করা হয়েছিল। এজন্য ডেকোরেটর ভাড়া করে চেয়ার-টেবিল আনা হয়।
তবে দুপুর ১২টার আগেই তারা চলে যান বলে জানান সৈয়দা শৈলী। তার ভাষ্য, ওই ব্যক্তিদের কোনো ডকুমেন্ট তাদের কাছে নেই।
পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি জেলার একটি সভায় থাকায় থানায় ছিলেন না।
পরে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে জানতে এসএমএস পাঠানো হলেও তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।