সংঘর্ষের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স চালককে মারধরের অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রেখেছেন চালকেরা।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। ওই ছাত্রী প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার পর তাঁকে উত্ত্যক্ত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জানাজানি হলে তাঁরা ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের সামনে আটক করেন। সেখানে তাঁকে মারধর করা হলে নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি এবং পরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুই পক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেটের দুই পাশে অবস্থান নেয়। এক পক্ষ গেটের ভেতরে এবং অন্য পক্ষ সড়কে অবস্থান করে পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও কয়েকজন শিক্ষক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিকভাবে শান্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে রাত ১১টার দিকে সংঘর্ষ থামে।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল আজিজ বলেন, এক জুনিয়র ছাত্রীকে র্যাগিংয়ের মতো করে উত্ত্যক্ত করে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীরাই তখন উত্তেজিত অবস্থায় ছিলেন।
সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে হামলা এবং চালক মো. তারেককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা সেবা বন্ধ রাখেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চালক মো. শহিদ বলেন, তাঁদের সহকর্মী তারেককে মারধর করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও পরিবহন পুলের ম্যানেজারের কাছে অভিযোগ জানিয়ে বিচার দাবি করবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, রাতভর প্রক্টরিয়াল টিম ক্যাম্পাসে অবস্থান করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে। ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রক্টরিয়াল টিমের সভায় এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা কেন বারবার নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে গবেষণার মাধ্যমে এর কারণ চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।