কর্মসূচির শুরুতে সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এতে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় জেলে ও মৎস্যচাষিরা অংশ নেন। র্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।
র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
পরে উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেলের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম সোহাগ, মির্জাগঞ্জ থানার এসআই মো. মামুন মিয়া এবং সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিলন বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসানউল্লাহ পিন্টু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মুন্সি এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান সুজন।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তায় মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে জলাশয় সংরক্ষণ, মাছের প্রজননক্ষেত্র রক্ষা এবং আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জেলে ও মৎস্যচাষিদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তারা আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে মৎস্যসম্পদের ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা গেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তি ও চাষাবাদ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি দেশের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে মির্জাগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক জেলে ও মৎস্য খামারিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় মৎস্য পক্ষকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।