শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে মির্জাগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার জাকিরের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ ও জেলা পুলিশের প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট বিকেলে মির্জাগঞ্জ উপজেলার ছৈলাবুনিয়া এলাকায় আইনজীবী মো. সামিউল আলম ও তাঁর স্ত্রী মোছা. শাহনাজ পারভীনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানায় মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মাদক মামলায় তিনি আইনজীবী মো. সামিউল আলমকে নিজের পক্ষে নিয়োগ করেন। ওই মামলায় নিয়মিত আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় গত ৯ জুন ধার্য তারিখে তাঁর পক্ষে আইনজীবী সময়ের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পুলিশের দাবি, নিজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি জানার পর আইনজীবী সামিউল আলমের ওপর ক্ষুব্ধ হন জাকির। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন সামিউল আলম ছৈলাবুনিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন জানতে পেরে জাকির অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে সেখানে যান।
পরে সেখানে সামিউল আলমের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয় বলে পুলিশের ভাষ্য। একপর্যায়ে স্বামীকে রক্ষা করতে তাঁর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন এগিয়ে এলে তাকেও হামলা করে আহত করা হয়। দুজনের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় হামলার সঙ্গে জাকিরের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় বলে দাবি করেছে।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর জাকির হোসেন এক স্থানে দীর্ঘ সময় অবস্থান না করে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করছিলেন। এ কারণে তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কিছুটা সময় লাগে। পরে শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মির্জাগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হামলার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না কিংবা হামলাকারীদের কেউ কোনোভাবে সহযোগিতা করেছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রযুক্তির সহায়তায় মূল আসামির সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনায় অন্য কারও জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।