স্থানীয় বাসিন্দা, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে মাদ্রাসার পাশের ইমন সরদারের বসতঘরের সামনে হঠাৎ বিকট শব্দে একটি বোমাসদৃশ বস্তু বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়।
আহতদের মধ্যে আবিদা (৮), জান্নাত (৯), মিনহা (১০) ও মাইমুনা (৯) রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় কয়েকজনকে মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত পঞ্চম শিক্ষার্থীর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার পর মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। খবর পেয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ বিস্ফোরণের স্থান ঘুরে দেখে এবং ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে।
বাড়ির মালিক ইমন সরদার বলেন, ‘আমার ঘরের সামনে কীভাবে ওই বিস্ফোরণ ঘটেছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।’
গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার মুহতামিম হাফিজুর রহমান বলেন, সকালে হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে বিষয়টি জানতে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসার পাশে বিস্ফোরণের ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
কালকিনি থানার ওসি মো. জহিরুল আলম বলেন, ‘মাদ্রাসার কাছে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কী ধরনের বস্তু বিস্ফোরিত হয়েছে এবং এর উৎস কোথায়—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।’
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরিত বস্তুটি আসলে কী ছিল, সেটি নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাটির সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।