২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত পটুয়াখালী পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন জুয়েল রানা। এ সময়ে নাগরিকসেবা উন্নয়ন, পৌরসভার প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তিনি আন্তরিক ভূমিকা রেখেছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
পৌরসভার কর্মীদের ভাষ্য, জুয়েল রানা প্রশাসকের দায়িত্বকে শুধু দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে তাঁদের কাজের পরিবেশ, পেশাগত সংকট ও নানা বাস্তব সমস্যা বোঝার চেষ্টা করেছেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ইলেকট্রিশিয়ানসহ বিভিন্ন শ্রেণির কর্মীদের সঙ্গেও তাঁর ছিল সরাসরি ও আন্তরিক যোগাযোগ।
বিদায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জুয়েল রানার আচরণে প্রশাসক ও কর্মচারীর আনুষ্ঠানিক দূরত্ব অনেকটাই কমে এসেছিল। কর্মীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিভিন্ন সংকটেও তিনি সহমর্মিতা দেখিয়েছেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তাঁর সহজ-সরল ব্যবহার ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলাদা একটি আস্থার জায়গা তৈরি করেছিল।
অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, জুয়েল রানার সঙ্গে সম্পর্কটি কেবল অফিসকেন্দ্রিক ছিল না; বরং তাঁর আন্তরিকতায় অনেকের সঙ্গে গড়ে উঠেছিল সহকর্মীর পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্কের মতো বন্ধন।
বক্তারা আরও বলেন, কর্মস্থল পরিবর্তন একজন সরকারি কর্মকর্তার চাকরিজীবনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু দায়িত্ব পালনের সময় একজন কর্মকর্তা মানুষের মনে যে জায়গা তৈরি করেন, কর্মস্থল বদল হলেও সেই স্মৃতি সহজে মুছে যায় না। জুয়েল রানার কর্মকালীন দায়িত্বশীলতা, মানবিক আচরণ ও কর্মীদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা দীর্ঘদিন মনে থাকবে।
বিদায় সংবর্ধনা শেষে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জুয়েল রানার নতুন কর্মস্থলে সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করেন। একই সঙ্গে তাঁর কর্মজীবনের পরবর্তী অধ্যায়েও সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
জুয়েল রানার বিদায় তাই শুধু একটি প্রশাসনিক বদলির ঘটনা নয়; পটুয়াখালী পৌরসভার কর্মীদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে একজন মানবিক প্রশাসকের সঙ্গে দীর্ঘ কর্মসম্পর্কের একটি আবেগঘন সমাপ্তি। তাঁর রেখে যাওয়া কর্মস্মৃতি ও সহকর্মীদের ভালোবাসাই যেন সেই বিদায়ের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি।