বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় কুয়াকাটা পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী।
সভায় কুয়াকাটা সৈকতের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য ধরে রাখা, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেবার মান বাড়ানো এবং সৈকত ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন বক্তারা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. আরিফুজ্জামান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসিন সাদেক, মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম আহমেদ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল হোসেন।
এ ছাড়া হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন বাবলু, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার, মহিপুর ইমাম সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মাঈনুল ইসলাম মন্নান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মহিপুর থানা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব ফজলুল হক খান এবং কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নিহার রঞ্জন দাসসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, পর্যটন ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যটনসংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য অক্ষুণ্ন রেখেই পর্যটনকেন্দ্রটির উন্নয়ন করতে হবে। কুয়াকাটাকে আরও আকর্ষণীয় ও পর্যটকবান্ধব করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভা শুরুর আগে কুয়াকাটার সৌন্দর্যবর্ধন ও স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়াতে কয়েকটি উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়।
কুয়াকাটার বিভিন্ন সড়কে কৃষ্ণচূড়া ও সোনালু গাছের চারা রোপণ, পর্যটক ও স্থানীয়দের জন্য একটি লাইব্রেরি, ডিসি লেকের সৌন্দর্যবর্ধন এবং পচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরির শেড উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক।
জেলা প্রশাসক বলেন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে কুয়াকাটার সৌন্দর্য আরও বাড়ানোর পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব। প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যটনসেবার মান উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম মিরন।