মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুমকি-বাউফল মহাসড়কের উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে শুরু হয়ে নতুন বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের দাবি, ইউএনও নিয়মিত কার্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজনে ফোন করা হলেও অনেক সময় সাড়া পাওয়া যায় না এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ইউএনওর কক্ষে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, উপজেলায় মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগেও অনিয়ম হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
এ ছাড়া গত ৫ আগস্ট ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রকৃত বীরদের যথাযথভাবে আমন্ত্রণ না জানানো এবং তাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলেও মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়।
কর্মসূচিতে স্থানীয় ছাত্রজনতার পক্ষে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা আমিনুল ইসলাম, শারমিন আক্তার স্বর্ণা, সাইফুল আলম, আবু রাফি এবং শ্রীরামপুরের চরবয়ড়া এলাকার বাসিন্দা নাজেম সরদারসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, উপজেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইউএনওকে অপসারণ করা না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরা বা অডিও রেকর্ডে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
এদিকে ইউএনওর অপসারণ দাবিতে ছাত্রজনতার এমন কর্মসূচিকে ঘিরে দুমকিতে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে তদন্তের পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।