নিজস্ব প্রতিনিধি : মহিপুর কুয়াকাটা
পটুয়ালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানাধীন নজিবপুর শুঁটকি পল্লীতে অবৈধভাবে শাপলাপাতা মাছ ও হাঙর শুকানোর অভিযোগ উঠেছে।
উপকূলীয় এ জনপদের বিভিন্ন শুঁটকি পল্লীতে সামুদ্রিক মাছের এসব প্রজাতি প্রক্রিয়াজাত করার দৃশ্য দেখা গেছে। এতে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহিপুরের নজিবপুর এলাকার বিভিন্ন শুঁটকি পল্লীতে শুঁটকি করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। এর মধ্যে শাপলাপাতা মাছ ও হাঙর রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। মাছগুলো শুঁটকি তৈরির জন্য প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে।
সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আহরণ ও সংরক্ষণে সরকারি বিধিনিষেধ রয়েছে। বিশেষ করে সংরক্ষিত প্রজাতির হাঙর ও শাপলাপাতা মাছ আহরণ, পরিবহন, বিক্রি এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ সামুদ্রিক সম্পদের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
শুঁটকি ব্যাবসায়ী শহিদুল ফরাজির শুটকি পল্লীতে শাপলাপাতা ও হাঙ্গর মাছ শুকটি প্রক্রিয়াজাতকরণ দেখে প্রশ্ন করলে তিনি মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকতার অনুমোদন আছে বলে জানান। তিনি আরও বলেন এ বিষয়ে জানতে হলে শুঁটকি ব্যাবসায়ী শিপনের সাথে কথা বলেন।
শুটকি ব্যাবসায়ী শিপনের কাছে শাপলাপাতা ও হাঙ্গর শুঁটকি করার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমরা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে জানি না তবে শাপলাপাতা ও কিছু প্রজাতির হাঙ্গর ক্রয়-বিক্রয় ও সংরক্ষন নিষিদ্ধ আছে তা জানি।
আমাদের যদি এ সম্পর্কে জানানো হয় তাহলে আমরা আর এসকল মাছ শুকটি করার জন্য কিনবো না।
এ বিষয়ে মহিপুর বন কর্মকতা মনিরুজ্জামান বলেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ২০২৬ অনুযায়ী শাপলাপাতা মাছ ও হাঙ্গর ধরা ক্রয় বিক্রয় ও সংরক্ষণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা এ বিষয়ে কাউকে কোন ধরনের অনুমতি দেইনি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করব।
স্থানীয়দের মতে, উপকূলীয় এলাকায় সামুদ্রিক মাছ আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণে যথাযথ নজরদারি না থাকলে নিষিদ্ধ বা সংরক্ষিত প্রজাতির মাছের বাণিজ্য বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ কারণে শুঁটকি পল্লীগুলোতে নিয়মিত তদারকি এবং অবৈধ মাছ আহরণ ও বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।