বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল থেকেই কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমন বাড়তে শুরু করে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে সৈকতের জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় পর্যটকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। কেউ সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন, কেউ পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান। আবার অনেককে সৈকতের বালুচরে ঘুরে বেড়াতে এবং বেঞ্চে বসে সমুদ্রের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা যায়।
শুধু মূল সৈকতের জিরো পয়েন্ট নয়, প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের লেম্বুরবন, চর গঙ্গামতিসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানেও পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ ছুটির আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসেছেন এই পর্যটন নগরীতে।
পর্যটকদের এমন উপস্থিতিতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে কুয়াকাটার পর্যটন খাতে। হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, ঝিনুক ও হস্তশিল্পের দোকান, ফটোগ্রাফারসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার মানুষের ব্যস্ততা বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের কক্ষ বুকিং থাকায় স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পর্যটকদের আগমনে খুশি ব্যবসায়ীরাও।
স্থানীয় ঝিনুক ব্যবসায়ী মো. ইয়াসিন বলেন, “টানা তিন দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় জমেছে। এতে আমাদের বেচাকেনাও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।”
হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোতালেব শরীফ বলেন, “টানা তিন দিনের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক কুয়াকাটায় এসেছেন। সারা বছর যদি পর্যটকদের এমন ধারাবাহিক আগমন বজায় থাকে, তাহলে পর্যটন ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন এবং কুয়াকাটার অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।”
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম হাওলাদার জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা-পুলিশও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক বলেন, কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য পৌর প্রশাসন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত ও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশেষ ছুটি ও উৎসবকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের এমন আগমন কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পের জন্য ইতিবাচক বার্তা। বছরজুড়ে পর্যটকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও গতিশীলতা আসবে।