স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে যাওয়ার পর দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে ভেতরে প্রবেশ করে কার্যালয়ের বিভিন্ন আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী খুঁজে না পেয়ে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন তাঁরা।
চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে ৩২ ইঞ্চি এলইডি টেলিভিশন, ৪০টি চেয়ার, দুই ডজন কাপ-পিরিচ, একটি আকাশ ডিশ সংযোগের সরঞ্জাম এবং সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য অর্ধলাখ টাকা বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে চরবোরহান ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে আয়োজিত পথসভা থেকে চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
চরবোরহান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল গাজী জানান, মাগরিবের নামাজের পর তিনি ফোনে কার্যালয়ের তালা ভাঙা এবং মালামাল চুরির খবর পান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা টেলিভিশন, চেয়ার, কাপ-পিরিচ, আকাশ ডিশের সরঞ্জামসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দেখতে পাননি। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে। বিএনপির কার্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনাকে সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
চরবোরহান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইউনূস হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক সুমন হাওলাদার বলেন, অস্থায়ী কার্যালয়ে ঢুকে এভাবে মালামাল চুরির ঘটনা কোনো সাধারণ বিষয় নয়। তাঁদের ধারণা, ঘটনাটি পরিকল্পিত। বিষয়টি উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁরা আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও জানান।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ছিদ্দিক মোল্লা বলেন, চুরির বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পরদিন শুক্রবার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি জেনেছেন। তবে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।