দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের ক্রীড়াঙ্গনে তুলে আনা এবং ভবিষ্যতের দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তোলার লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২০২৭ (সিজন-২)’ প্রতিযোগিতা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন।
খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত ছিল পটুয়াখালী জেলা। এ উপলক্ষে জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক ও আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা ভার্চুয়ালি উদ্বোধনী আয়োজনের সঙ্গে সংযুক্ত হন।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের প্রতিভা অন্বেষণ, তাদের ক্রীড়া দক্ষতা বিকাশ এবং জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ তৈরি করা। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার পাশাপাশি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দলগত মনোভাব ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
পটুয়াখালী জেলার জন্যও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপকূলীয় এ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে অনেক প্রতিভাবান শিশু-কিশোর রয়েছে, যারা যথাযথ প্রশিক্ষণ, পরিচর্যা ও সুযোগের অভাবে ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারে না। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মতো প্রতিযোগিতা তাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
বিশেষ করে বিদ্যালয় ও স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাছাই এবং পর্যায়ক্রমে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে পটুয়াখালী থেকেও জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ তৈরি হওয়ার সুযোগ বাড়বে।
ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নিতে শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক আয়োজন যথেষ্ট নয়; প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দেরও সমান সুযোগ দিতে হবে। তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন খেলোয়াড় খুঁজে বের করা এবং তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা গেলে দেশের ক্রীড়াঙ্গন আরও সমৃদ্ধ হবে।
তারা মনে করেন, নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মেধা ও শারীরিক সক্ষমতার বিকাশের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ইতিবাচক মনোভাবও গড়ে তোলা সম্ভব।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২০২৭ (সিজন-২)’ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে নতুন উদ্যোগের সূচনা হলো। এখন এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা, সুষ্ঠু প্রতিভা বাছাই এবং যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের জন্য দক্ষ খেলোয়াড় তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।