বুধবার (৪ নভেম্বর) উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘গ্রাম আদালত: গ্রামীণ জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সহজ মাধ্যম’ শীর্ষক এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবনী কুমার রায়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন লালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল খালেক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রাম আদালতের কলাপাড়া উপজেলা সমন্বয়কারী রাশেদ খান।
প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে ‘গ্রাম আদালতই গ্রামীণ জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর মাধ্যম’ বিষয়ের পক্ষে-বিপক্ষে নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করে।
পক্ষ দলের নেতৃত্ব দেন শিক্ষার্থী বায়জীদ। দলের অন্য সদস্য ছিলেন মোসা. তানজিলা আক্তার ও মোসা. ইসরাত জাহান। অন্যদিকে বিপক্ষ দলের নেতৃত্ব দেন মোসা. আফরোজা আক্তার। তার দলের সদস্য ছিলেন মো. ইবনে সাবিত ও মোসা. নাহিদা আক্তার।
বিতর্কে উভয় দলের শিক্ষার্থীরা তথ্য, যুক্তি ও সাবলীল বক্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। প্রতিযোগিতা শেষে বিচারকদের মূল্যায়নে পক্ষ দল বিজয়ী হয়। একই সঙ্গে যুক্তিনির্ভর বক্তব্য ও উপস্থাপনার জন্য শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন পক্ষ দলের দলনেতা বায়জীদ। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন।
আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সহজে ও স্বল্প খরচে ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে গ্রাম আদালতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি করে এ প্রতিষ্ঠান। তবে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও এখতিয়ার সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক ও নাগরিক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি গ্রাম আদালতের ইতিবাচক ভূমিকা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের বিতর্ক প্রতিযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। গ্রামীণ পর্যায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও প্রচার ও প্রসারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
এ সময় গ্রাম আদালতের স্লোগান—‘অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলে যাই গ্রাম আদালতে’—উল্লেখ করে এর কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।