পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরে এসে পৌঁছেছে ৬২ হাজার মেট্রিক টন কয়লাবাহী সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী মাদার ভ্যাসেল ‘এমভি এমবিএস তাইসি’। গভীর সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে আসা বিশাল আকৃতির জাহাজটির আগমনে পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারের আশা করা হচ্ছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে জাহাজটি পায়রা বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়। বন্দর চ্যানেল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রে জাহাজটি নিরাপদে নোঙর করে। ১৯৯ মিটার দৈর্ঘ্য, ৩২ মিটার প্রস্থ এবং সাড়ে ১৩ মিটার গভীরতার এ মাদার ভ্যাসেলটি গত ২৪ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ার তারাহান বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জাহাজটিতে থাকা কয়লা মূলত পায়রা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হবে। কয়লাবাহী বড় জাহাজের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
পায়রা বন্দরের হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন এস এম শরিফুর রহমান জানান, সোমবার রাতে মাদার ভ্যাসেলটি নির্বিঘ্নে বন্দরের বহির্নোঙরে এসে অবস্থান নেয়। পরদিন থেকেই লাইটার জাহাজের মাধ্যমে কয়লা খালাসের কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রথমে জাহাজের অর্ধেকের বেশি কয়লা ছোট লাইটার জাহাজে স্থানান্তর করা হবে। এরপর মাদার ভ্যাসেলটি বন্দরের টার্মিনালে এনে অবশিষ্ট কয়লা খালাস করা হবে।
এদিকে পায়রা বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) আজিজুর রহমান জানান, বন্দরে জাহাজের আগমন অব্যাহত থাকবে। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে পায়রা বন্দর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পায়রা বন্দরে বড় আকারের মাদার ভ্যাসেলের নিয়মিত আগমন দেশের সমুদ্রবাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন ও বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ইতিবাচক। বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে বন্দরের সক্ষমতা ও পণ্য খালাস কার্যক্রমের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
৬২ হাজার মেট্রিক টন কয়লাবাহী ‘এমভি এমবিএস তাইসি’র আগমনের মধ্য দিয়ে পায়রা বন্দরের চলমান পণ্য পরিবহন কার্যক্রমে আরও একটি নতুন সংযোজন ঘটল।