মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কলাপাড়া চৌরাস্তা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেন এসআরবি-৮-এর সদস্যরা। পরে তাকে কলাপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গ্রেপ্তার তাইজুল ইসলাম মুসা পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের রাজ্জাক মোল্লার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত থাকায় এলাকায় তিনি ‘মুসা হুজুর’ নামে পরিচিত বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর সৎবাবা গত ৩১ আগস্ট মুসাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। কিশোরী, তার মা ও সৎবাবা প্রায় দুই মাস ধরে কলাপাড়া পৌর শহরের মদিনাবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। কিশোরীর অসুস্থতার কারণে এক পূর্বপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে কবিরাজ মুসার সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। চিকিৎসার কথা বলে মুসা ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। একপর্যায়ে কিশোরীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরীর সৎবাবা বাসায় না থাকার সুযোগে মুসা কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তার সহযোগীরা কৌশলে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
এ ছাড়া পরবর্তী সময়ে আরও কিছু ব্যক্তিগত ভিডিও এবং কিশোরীর মায়ের ব্যক্তিগত মুহূর্তের দৃশ্য গোপনে ধারণের অভিযোগও আনা হয়েছে।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, কিশোরী মুসাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর মুসার সহযোগীরা ধারণ করা ভিডিও বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর এবং মা-মেয়ের ব্যক্তিগত নম্বরে পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইল শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৫ অক্টোবর মুসা ও তার সহযোগীরা পুনরায় ওই বাসায় গিয়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। পাশাপাশি তাদের কথামতো না চললে ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার আসামিকে বুধবার (৪ নভেম্বর) আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কিশোরী ও তার পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।