শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো এবং ঝরে পড়ার প্রবণতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে পটুয়াখালীর গলাচিপায় কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হয়েছে মিড-ডে মিল কার্যক্রম। সরকারের সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে বরিশাল বিভাগের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিদ্যালয়টিতে পরীক্ষামূলকভাবে এ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এর আওতায় বিদ্যালয়ের ২১২ জন শিক্ষার্থী প্রতিদিন কুপনের মাধ্যমে দুপুরের খাবার সংগ্রহের সুযোগ পাবে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদ করিম।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. মনিরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রিপন কুমার দাস, মো. মজনু মোল্লা ও মো. ওয়ালীউল ইসলাম। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. সোলায়মান, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত রনি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও অংশ নেন।
মিড-ডে মিল কার্যক্রমের আওতায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থাপিত ক্যান্টিন থেকে নির্ধারিত কুপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহ করা হবে। খাবারের তালিকায় রয়েছে বনরুটি, সিদ্ধ ডিম, কলা, খেজুর, কিসমিস, চিনাবাদাম, ড্রাই কেক ও ইউএইচটি প্যাকেটজাত তরল দুধ। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ডিম ও কলা বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তালিকায় থাকা অন্যান্য খাবার থেকে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার সংগ্রহ করতে পারবে তারা। এ জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৩৫ টাকা সমমূল্যের কুপন দেওয়া হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. মনিরা সুলতানা বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিদিনের নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা ডিম ও কলার পাশাপাশি কুপনের মাধ্যমে পছন্দের খাবার সংগ্রহ করতে পারবে। এ উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর বলেন, বরিশাল বিভাগের মধ্যে গলাচিপার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে মিড-ডে মিল কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন থাকবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে এবং শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত কুপন ব্যবহার করে সেখান থেকে খাবার সংগ্রহ করতে পারবে। খাদ্যতালিকায় ডিম ও কলার পাশাপাশি বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়বে। একই সঙ্গে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমাতেও কর্মসূচিটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।