শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীও একজন। অথচ সেই একমাত্র শিক্ষার্থীও এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এমন চিত্র পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুরে অবস্থিত সাবিনা আক্তার স্কুল অ্যান্ড কলেজের। প্রতিষ্ঠানটির এমন ফলাফল ও সীমিত শিক্ষা কার্যক্রম ঘিরে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে।
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির মানবিক বিভাগ থেকে আফরিন আক্তার নামের একজন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তবে পরীক্ষার ফলাফলে তিনি একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। এর আগেও তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ফলে চলতি বছরেও প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে কলেজ শাখার কার্যক্রম শুরু করে সাবিনা আক্তার স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তবে প্রতিষ্ঠার পর কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিষ্ঠানটিতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কার্যক্রম গড়ে ওঠেনি বলে জানা গেছে। বর্তমানে কলেজটি এমপিওভুক্ত নয়। শিক্ষকসংকট ও শিক্ষার্থীস্বল্পতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আবু তালেব জানান, তিনি ছাড়া কলেজে আর কোনো শিক্ষক নেই। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় মাত্র একজন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এর আগেও ওই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করতে পারেননি।
অধ্যক্ষ আবু তালেব বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানটি নতুন এবং এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। এখানে আমি ছাড়া আর কোনো শিক্ষক নেই। এবার মাত্র একজন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করে পরীক্ষা দিয়েছিল, সেও ফেল করেছে। এর আগেও সে পরীক্ষা দিয়েছিল, তখনও পাস করতে পারেনি। শিক্ষা কার্যক্রম একেবারেই নেই বললেই চলে। যারা কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাদেরও কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই। অধ্যক্ষ হয়ে এখানে আমি নিজেই বিপাকে আছি।’
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর এমন সীমিত উপস্থিতি এবং ধারাবাহিকভাবে দুর্বল ফলাফল স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা, পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে কলেজ শাখা চালুর কয়েক বছর পরও প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ ও কার্যকর শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।