পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের আইনজীবীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক আসামির বিরুদ্ধে।
রোববার (৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ছলাবুনিয়া গ্রামের স্লুইসগেট এলাকায় আইনজীবীর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত জাকির ফরাজী মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। অন্যদিকে হামলার শিকার আইনজীবী সামিউল আলীম (৪৪) আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি।
জানা গেছে, জাকির ফরাজীর বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌকি আদালতে একটি মাদক মামলা চলমান রয়েছে। মামলাটি তার পক্ষে পরিচালনা করছিলেন আইনজীবী সামিউল আলীম।
ভুক্তভোগী আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার মামলার ধার্য তারিখ থাকায় তিনি মুঠোফোনে জাকির ফরাজীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তবে জাকির ব্যস্ততার কথা জানিয়ে আদালতে হাজির হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে সামিউল আসামির পক্ষে সময়ের আবেদন করেন। কিন্তু আদালত ওই আবেদন খারিজ করে জাকির ফরাজীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
সামিউল আলীম বলেন, পরে তিনি মুঠোফোনে জাকিরকে আদালতের আদেশের বিষয়টি জানান। রাত ৮টার দিকে তিনি বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় জাকির মোটরসাইকেলে করে সেখানে এসে ধারালো দা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এতে সামিউলের ডান পায়ের হাঁটুর ওপরের অংশে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জাকির ফরাজীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান বলেন, একজন আইনজীবীর ওপর হামলার খবর তারা সূত্রের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তবে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো মৌখিক বা লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।