পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় গভীর রাতে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টার অভিযোগে মো. মনির মীর নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে উপজেলার নলুয়াবাগী গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মজিবুল হক খলিফার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক মনির মীর গণঅধিকার পরিষদের গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। তিনি গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোলখালী গ্রামের বাসিন্দা আ. কাদের মীরের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নলুয়াবাগী গ্রামের কয়েকজন জেলে মজিবুল হক খলিফার বাড়ির সামনের সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁরা বিদ্যুতের একটি ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টা করতে দেখে সন্দেহ হলে চিৎকার শুরু করেন। তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
পরে স্থানীয়রা মনির মীরকে আটক করেন। একপর্যায়ে তাঁকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পূর্ব দক্ষিণ নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আটকে রাখা হয়। পরদিন সকালে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পল্লী বিদ্যুতের জুলেখা বাজার অভিযোগ কেন্দ্রের জুনিয়র ইনচার্জ সৈয়দ আবদুল হান্নান জানান, ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টার সময় স্থানীয় জনতা মনির মীরকে আটক করেন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে রেঞ্জ, প্লাস, রড, কাটিং প্লাস ও মিনি রোলকাটারসহ চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গলাচিপা উপজেলায় বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত এক বছরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫টি ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
ট্রান্সফরমার চুরির কারণে কোনো কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। এতে বাসাবাড়ির স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজেও বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উত্তর পক্ষিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান মিল্টন বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে নতুনগ্রাম এলাকা থেকে একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এতে ওই এলাকার প্রায় ২৫টি পরিবার এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎহীন ছিল। নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বাবুল মিয়া বলেন, গত দুই মাসে তাঁর এলাকায় চার থেকে পাঁচটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
গলাচিপা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জয় প্রকাশ নন্দী জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায়ই ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। গত এক বছরে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫টি ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, এসব ঘটনায় স্থানীয় কেউ বাদী না হলে পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, ট্রান্সফরমার চুরির এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনাগুলো তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম চুরি প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো হলে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমবে।