পটুয়াখালীর মহিপুরে খাপড়াভাঙ্গা নদীতে অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোটসহ তিন জেলেকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় বোটগুলো থেকে নিষিদ্ধ ৯টি বেহুন্দি জাল, ৬টি উইংস ও ৬টি ট্রলডোর জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে পটুয়াখালীর মহিপুর ব্রিজসংলগ্ন খেয়াঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কোস্ট গার্ড স্টেশন নিজামপুর ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে খাপড়াভাঙ্গা নদী থেকে অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোটসহ তিন জেলেকে আটক করা হয়।
আটক জেলেরা হলেন—নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর জব্বর ইউনিয়নের জাহাজমারা গ্রামের মো. হানিফের ছেলে মো. মাকসুদ, একই উপজেলার চর হাসান গ্রামের আনা মিয়ার ছেলে মো. বাবুল এবং লক্ষ্মীপুরের রামগতি (আলেকজান্ডার) উপজেলার শিখাগ্রামের মো. হান্নানের ছেলে মো. ফরহাদ।
অভিযানকালে তিনটি বোটে তল্লাশি চালিয়ে নিষিদ্ধ ৯টি বেহুন্দি জাল, ৬টি উইংস ও ৬টি ট্রলডোর উদ্ধার করা হয়। নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত এসব সরঞ্জাম জব্দের পর আটক জেলেদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, জব্দ করা বোট, জাল ও ট্রলিং সরঞ্জামসহ আটক জেলেদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং অবৈধভাবে মাছ আহরণ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নদী ও উপকূলীয় জলসীমায় অবৈধ মাছ ধরার সরঞ্জামের ব্যবহার জলজ সম্পদ সংরক্ষণের জন্য উদ্বেগের কারণ। মৎস্যসম্পদ রক্ষা, মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখা এবং মৎস্য আইন বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।
উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধভাবে মাছ আহরণ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।