উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে গত ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। এ সময়ে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পায়রা নদীর বিভিন্ন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের অংশ হিসেবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগে ছয়টি ট্রলার ও চারটি নৌকা জব্দ করা হয়।
পরে প্রচলিত আইন ও সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জব্দ করা নৌযানগুলো প্রকাশ্য নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। বুধবার অনুষ্ঠিত নিলামে ১০টি নৌযান সর্বমোট ৬২ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়।
নিলাম কার্যক্রম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ খায়রুল চৌধুরী এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান জানান, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে পায়রা নদীতে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে নিষিদ্ধ জাল ও মাছ ধরার নৌযান জব্দ করা হয়। পরবর্তী সময়ে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জব্দ করা নৌকা ও ট্রলারগুলো নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার গত ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে দুমকির পায়রা নদীসহ বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন সুরক্ষায় জেলে, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন।