পটুয়াখালীতে জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে অ্যাডভোকেসি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পটুয়াখালীর এসডিএ রিসোর্স অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার অডিটরিয়ামে ‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইকুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
ফর দ্যা লাইটের আয়োজনে, জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের উদ্যোগে, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।
সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফর দ্যা লাইটের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর অর্পিতা দাস অথই। এ সময় পটুয়াখালীর বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
সংলাপে জেন্ডারভিত্তিক নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধ, কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সমাজে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে করণীয় নিয়েও মতবিনিময় হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করলেই বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়; এ জন্য পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে। নারীর প্রতি অসম আচরণ, সামাজিক কুসংস্কার এবং বৈষম্যমূলক মানসিকতা পরিবর্তনে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নেতৃত্ব বিকাশে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা মনে করেন, স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারী ও তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হলে সমাজে অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের অ্যাডভোকেসি সংলাপ জেন্ডার সমতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করবে। একই সঙ্গে তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণে এ আয়োজন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।