সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এনজিও প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পটুয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. অপু সরোয়ার, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ও ইউএইচ অ্যান্ড এফপিও ডা. ভূপেন মণ্ডল, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুহা. মুজিবুর রহমান, জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহআলম সিকদার, সাবেক পৌর মেয়র মোস্তাক আহম্মেদ পিনু এবং পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনসহ অন্যরা।
সভায় বক্তারা বলেন, সুস্থ ও রোগমুক্ত জীবনযাপনের জন্য ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিকল্প নেই। দৈনন্দিন জীবনে সঠিক নিয়মে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বিশেষ করে খাবার গ্রহণের আগে, শৌচাগার ব্যবহারের পর এবং হাত ময়লা হলে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, শিশুদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম শেখানো গেলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক, অভিভাবক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
তাঁদের মতে, শুধু দিবস পালনের মধ্যেই হাত ধোয়ার সচেতনতামূলক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ পানি, সাবান ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা আরও সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের অংশগ্রহণে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের গুরুত্ব, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত ও সঠিকভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং এ বিষয়ে পরিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে দিবসটির মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।