উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলমান ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’-এর অংশ হিসেবে নদীতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে আহরণ করা প্রায় ২৫ কেজি ইলিশসহ অন্যান্য প্রজাতির মাছ জব্দ করা হয়। পরে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী জব্দ করা মাছগুলো রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী খেয়াঘাটসংলগ্ন তিনটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তবে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা মাছের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে না পৌঁছে ব্যক্তিগত বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে আকস্মিক অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানকালে মোহাম্মদ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসাটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক মো. আব্দুল্লাহকে (২৭) ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বরাদ্দের মাছ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। খোঁজ নিয়ে প্রশাসন জানতে পারে, মাদ্রাসাটি আবাসিক নয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শিক্ষক আব্দুল্লাহ জানান, স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেনের (৫৫) সঙ্গে মিলে বরাদ্দ পাওয়া মাছ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। বিষয়টি জানার পর প্রশাসন ঘটনার সত্যতা যাচাই করে। একই সঙ্গে অন্য দুটি মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বরাদ্দ করা মাছ যথাযথভাবে পৌঁছেছে কি না, তা-ও নিশ্চিত করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বরাদ্দ করা মাছ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মো. আব্দুল্লাহ ও আবুল হোসেনকে প্রত্যেককে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, মাদ্রাসার জন্য বরাদ্দ করা মাছ প্রতিষ্ঠানে না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দুজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নদীতে অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধ করার পাশাপাশি জব্দ করা মাছের যথাযথ বণ্টন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় বরাদ্দ করা মাছ নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।