জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে অ্যাডভোকেসি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংলাপে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে ‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইকুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সহযোগিতা ও নেদারল্যান্ডস সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পটির আওতায় সংলাপের আয়োজন করে ‘ইয়ুথ পাওয়ার পটুয়াখালী’। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে ‘জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’।
ইয়ুথ পাওয়ার পটুয়াখালীর সভাপতি কে. এম. জাহিদ হোসেনের সঞ্চালনা ও সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান সোহেল, দেশ টিভির পটুয়াখালী প্রতিনিধি সাংবাদিক সাইদুর রহমান সাঈদ এবং লাউকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহনাজ পারভীন। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তরুণ প্রতিনিধিরা সংলাপে অংশ নেন।
সংলাপে জেন্ডারভিত্তিক সামাজিক কুসংস্কার, প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা ও বৈষম্যমূলক আচরণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ বন্ধ, নারীর শিক্ষা ও নেতৃত্ব বিকাশ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বক্তারা বলেন, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা কেবল নারীর অধিকারসংক্রান্ত বিষয় নয়; এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের অন্যতম শর্ত। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার, মর্যাদা এবং সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্য অর্জনে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, সমাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতিবাচক সামাজিক রীতিনীতি পরিবর্তনে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তরুণেরা সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
আলোচনায় বলা হয়, সামাজিক উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তরুণদের মতামত ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাঁদের সম্পৃক্ত করতে হবে।
বক্তারা মনে করেন, শুধু সচেতনতামূলক আলোচনা আয়োজন করলেই জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য দূর করা সম্ভব নয়। এ জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ, সামাজিক প্রতিরোধ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, মর্যাদা, শিক্ষা এবং নেতৃত্ব বিকাশের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি কে. এম. জাহিদ হোসেন বলেন, “একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তন, নারীর অধিকার সুরক্ষা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী ও যুবসমাজের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সোচ্চার হতে হবে।”
আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সংলাপ স্থানীয় পর্যায়ে জেন্ডার সমতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে সহায়ক হবে। পাশাপাশি নারী-পুরুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমান অধিকার ও মর্যাদার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম করবে।