রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাউফল পৌর শহরের বাংলাবাজার জামে মসজিদসংলগ্ন আলোকি খাল থেকে ওই ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে তাঁর পরিচয় জানা না গেলেও পরে পোশাক ও শারীরিক গঠনের বিবরণ মিলিয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলম গাজী ওরফে আলম ফকির গত বুধবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার রাতে খাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের খবর পান তাঁরা। পরে রোববার সকালে কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে পুলিশের সংগ্রহ করা আলামতের মধ্যে থাকা লুঙ্গি ও টি-শার্ট দেখে মরদেহটি আলম ফকিরের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী রিপা বেগম জানান, তাঁর বাবা বিভিন্ন এলাকায় ওরস অনুষ্ঠানে ভাণ্ডারি গান পরিবেশন করতেন। তাঁর বাবা তিনটি বিয়ে করেছিলেন। রিপার মা পিয়ারা বেগম ছিলেন প্রথম স্ত্রী। দ্বিতীয় স্ত্রীও তাঁদের সঙ্গে বসবাস করতেন। তবে আলম ফকির তাঁর তৃতীয় স্ত্রী ফারজানার সঙ্গে বাউফলের আলোকি খালসংলগ্ন দাশপাড়া এলাকায় থাকতেন। সেখান থেকেই তিনি নিখোঁজ হন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মনিরুজ্জামান সরদার জানান, মরদেহের পোশাক ও শারীরিক গঠনের বিবরণ মিলিয়ে পরিবারের সদস্যরা আলম ফকিরকে শনাক্ত করেছেন। মরদেহ উদ্ধারের পর নৌ-পুলিশের কর্মকর্তা সরওয়ার আলম সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
তিনি জানান, মরদেহটি পানিতে ডুবিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে শরীরের সঙ্গে প্রায় ১৭টি ইটভর্তি একটি প্লাস্টিকের বস্তা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করে।
নৌ-পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, হত্যা মামলাটির তদন্ত করবে বাউফল থানা-পুলিশ।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে।
খাল থেকে মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজের সময়কাল এবং মরদেহের সঙ্গে ইটভর্তি বস্তা বাঁধা থাকার বিষয়টি ঘিরে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে কে বা কারা, কী কারণে আলম ফকিরকে হত্যা করে থাকতে পারে, সে বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
পুলিশের তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদসূত্র: কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও বাউফল থানা-পুলিশ।