রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলাবাজার গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত অমিত হাজারি ওই গ্রামের অর্জুন হাজারির ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আনন্দ-উৎসবের একপর্যায়ে আতশবাজি ফোটাতে গিয়ে বিস্ফোরণের শিকার হন অমিত। এতে তাঁর বাম হাতের পাঁচটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং হাতের বিভিন্ন অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুতরতা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) পাঠানো হয়।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, অমিতের হাতে ‘ডিগ্লোভিং ইনজুরি’ হয়েছে। এ ধরনের আঘাতে ত্বক ও নরম টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিস্ফোরণের কারণে তাঁর হাত গুরুতরভাবে জখম হয়েছে। হাতটি রক্ষা করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে আনন্দ-উল্লাস করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন। বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। উৎসবের আনন্দের মধ্যে আতশবাজি ব্যবহারে অসতর্কতা কীভাবে গুরুতর দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, তা আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে বিস্ফোরকজাতীয় সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত থাকা জরুরি।