শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কেশবপুর মহাবিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সভায় শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
কেশবপুর মহাবিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার (সিনিয়র) সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম। প্রধান বক্তা ছিলেন মহাবিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও সহকারী অধ্যাপক ফরাজি সাইদুর রহমান জুয়েল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাবিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান, ঢাকা সেনানিবাসের আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. নিজাম উদ্দিন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান চুন্নু, বাউফল উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এনায়েত হোসেন ঝন্টু, মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার এবং বাউফল উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাসার সিকদার। এ ছাড়া অভিভাবক সদস্য আনিসুর রহমান কিবরিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
মাদক নিয়ন্ত্রণে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, “সকলের সমষ্টিগত চেষ্টার মাধ্যমেই মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।”
তিনি মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মাদক প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
যুবসমাজকে রক্ষায় অভিভাবকদের দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ
সভাপতির বক্তব্যে মো. হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার বলেন, কেশবপুর ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার যুবসমাজের জন্য উদ্বেগজনক। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।
তিনি সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুমহল ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে খোঁজখবর রাখার পাশাপাশি তাদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। পরিবার থেকে সচেতনতা ও সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করা গেলে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সহায়ক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান
প্রধান বক্তা ফরাজি সাইদুর রহমান জুয়েল বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নিজ নিজ এলাকায় মাদক প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উদ্যোগ নিলে প্রশাসন সহযোগিতা করবে।
তিনি আরও বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে সবুজ বাংলাদেশের বার্তা
আলোচনা সভা শেষে কেশবপুর মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণে উৎসাহ সৃষ্টি এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার বার্তা তুলে ধরা হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, মাদকবিরোধী সচেতনতা, শিক্ষার উন্নয়ন এবং পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলবে। পাশাপাশি প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সচেতন, পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে।