কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভাল ঘিরে বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৬ কিলোমিটার বিচ ম্যারাথন ও ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব। সমুদ্রের ঢেউ, ভোরের স্নিগ্ধ পরিবেশ ও সূর্যোদয়ের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে ম্যারাথনে অংশ নেন প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ পর্যটক। তবে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যেও কিছু অব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীদের অনেকে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর ৫টায় কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে ম্যারাথন শুরু হয়। দৌড়টি শেষ হয় গঙ্গামতি এলাকায় গিয়ে। ছয় কিলোমিটারের এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্য দিয়ে দৌড়ানোর অভিজ্ঞতা উপভোগ করেন।
ম্যারাথন শেষে গঙ্গামতি এলাকায় আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব। বিভিন্ন ধরনের পিঠার সমাহারে উৎসবস্থলে তৈরি হয় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী আবহ। স্থানীয় খাবারের বৈচিত্র্য ও বাঙালির লোকজ সংস্কৃতিকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে এ আয়োজন।
ম্যারাথনে অংশ নেওয়া পর্যটকেরা জানান, ভোরের নির্মল পরিবেশ, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ এবং সূর্যোদয়ের দৃশ্য তাঁদের মুগ্ধ করেছে। তবে কার্নিভালের কয়েকটি আয়োজনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে কেউ কেউ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, আয়োজন আরও সুশৃঙ্খল হলে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা আরও ভালো হতো।
কার্নিভালের প্রথম দিন শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয় ঘুড়ি উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বিচ ফুটবল প্রতিযোগিতা। রাতে ছিল চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার স্টেজ শো, চিশতি বাউল ও প্রীতম হাসানের সংগীত পরিবেশনা এবং সাদ্দাম মালের কমেডি শো।
দুই দিনব্যাপী কার্নিভালের দ্বিতীয় দিনে রয়েছে ভলিবল ম্যাচ, সেলিব্রিটি ক্রিকেট ও সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরদিন ভোরে সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মধ্য দিয়ে কার্নিভালের সমাপ্তি ঘটবে।
এদিকে, কার্নিভালকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী পর্যটকের সমাগম হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, এ ধরনের আয়োজন পর্যটন মৌসুমে কুয়াকাটায় দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে পারে। তবে পর্যটকের উপস্থিতি বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা, সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পর্যটনসেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রসৈকত ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা ব্যাপক। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পরিকল্পিত আয়োজন ও উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্নিভাল আরও বেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।