গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর গলাচিপায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে গিয়ে জেলেদের হামলার শিকার হয়েছেন মৎস্য বিভাগ ও পুলিশের যৌথ দলের সদস্যরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর কালিরচর পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের এক কনস্টেবল ও অভিযানে ব্যবহৃত স্পিডবোটের চালক আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন গলাচিপা থানার পুলিশ কনস্টেবল মো. জসিম ও স্পিডবোটচালক মো. শাহজালাল। ঘটনার পর তাঁদের উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর কালিরচর এলাকায় অবৈধভাবে ইলিশ শিকারের খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে মৎস্য বিভাগ ও পুলিশের একটি যৌথ দল স্পিডবোট নিয়ে অভিযানে নামে। এ সময় নদীতে ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে থাকা ১০ থেকে ১২ জন জেলেকে দেখতে পেয়ে তাঁদের ধাওয়া করেন অভিযানকারী দলের সদস্যরা।
একপর্যায়ে যৌথ দলটি ট্রলারের কাছাকাছি পৌঁছালে জেলেরা লাঠিসোঁটা ও বৈঠা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্পিডবোটচালক মো. শাহজালাল আহত হন। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে পুলিশ কনস্টেবল মো. জসিমের হাত কেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত জখম হন।
হামলার পর অভিযুক্ত জেলেরা ডাবল ইঞ্জিনচালিত একটি দ্রুতগতির ট্রলার নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকারি দলের ওপর হামলায় একজন পুলিশ সদস্য ও স্পিডবোটচালক আহত হয়েছেন।
গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নদ-নদীতে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার বন্ধে অভিযান পরিচালনা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ধরনের অভিযানে হামলার ঘটনা সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করার পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের কার্যক্রমকেও ব্যাহত করতে পারে।