স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচখালী চরে নিজেদের রেকর্ডীয় জমি চাষাবাদের উপযোগী করতে ভ্যাকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ করছিলেন ভুক্তভোগীরা। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এর আগে একাধিকবার দশমিনা থানায় বৈঠক হয়। পুলিশের নির্দেশে আপাতত বাঁধ নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে তাঁরা খাবার খেতে বসেছিলেন। এ সময় ট্রলারযোগে মনির চৌকিদার, সাকুর হাওলাদার, নূরে আলম, ইস্কান্দার, বেল্লাল ফরাজি ও রিয়াজ হাওলাদারসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল সেখানে আসে। তাঁদের দাবি, দলটির কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাঁরা আহত হন।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, হামলার পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় তাঁদের চাল, ডাল, ডিজেল, নগদ টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
আহতদের স্বজনেরা তাঁদের উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. মোস্তফা খলিফা (৬২) ও আউয়াল ফকিরকে (৬০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন সিদ্দিক ফকির (৪০), হারুন মুন্সি (৫৩), রত্তন বয়াতি (৩৮), আবুল কালাম হাওলাদার (৬০), ইউনুস হাওলাদার (৭০), ওহবা (৩৫), শাহ আলম (৭৬), হাসেম হাওলাদার (৬০), দুলাল হাওলাদার (৫০), মোয়াজ্জেম সরদার (৫৮), মনির খন্দকার (৫৫) ও শাহ আলম সিকদার (৪৫)। এ ছাড়া মালেক হাওলাদার (৫৫) নামের আরেকজনের আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে আহতের সংখ্যা ও নামের তালিকা সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইস্কান্দার বলেন, “আমি সেখানে ভ্যাকুর কাজে গিয়েছিলাম, কাউকে মারধর করতে যাইনি। বরং আমি মারামারি থামানোর চেষ্টা করেছি। ওই চরে আমার কোনো জমিজমাও নেই।”
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চরের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ, হামলার অভিযোগ এবং লুটপাটের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সূত্র: স্থানীয় সূত্র, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অভিযুক্তের বক্তব্য ও দশমিনা থানা পুলিশ।