শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পটুয়াখালীর বাউফল ও পটুয়াখালী সদরসহ বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন শহীদ জিয়া গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসব উদ্যাপনের আহ্বান জানান।
গত সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার তিনি পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে আয়োজক, মন্দির কমিটির সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনিসুর রহমান আনিস বলেন, “বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবার। আমরা দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করে আসছি।” তিনি আরও বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অঙ্গীকার রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের ঐতিহ্য রয়েছে। সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির, জাসাসের পটুয়াখালী জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহবুব উর রহমান এবং জিয়া গবেষণা পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম কিবরিয়া। এ সময় বাউফল উপজেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে আনিসুর রহমান আনিস আরও বলেন, বিএনপি জনবান্ধব রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাঁর দাবি, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ বিএনপির পক্ষে কাজ করেছেন ও ভোট দিয়েছেন, যা দলটির সরকার গঠনের পথ সুগম করতে ভূমিকা রেখেছে।
১৪টি মন্দিরে উন্নয়ন বরাদ্দের উদ্যোগ
এদিকে আনিসুর রহমান আনিসের উদ্যোগে বাউফল ও পটুয়াখালী অঞ্চলের ১৪টি মন্দিরে সরকারি আর্থিক বরাদ্দ পাওয়ার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্তির কথা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্দিরগুলোর উন্নয়নে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তালিকাভুক্ত মন্দিরগুলোর মধ্যে রয়েছে—বাউফলের দাসপাড়া রাধামাধব মন্দির, কুম্ভখালী সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গামন্দির, মদনপুরা সার্বজনীন শিবানন্দ মন্দির, সার্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা কালী ও শীতলামাতা মন্দির, ছিটকা রাজাপুর সার্বজনীন দুর্গামন্দির, ডা. রাই চরণ রায়ের বাড়ি সার্বজনীন দুর্গামন্দির, শ্রী শ্রী রক্ষা চন্দ্রী মন্দির, শ্রী শ্রী দুর্গামাতা মন্দির এবং রাজাপুর শ্রী শ্রী রক্ষা চণ্ডী মন্দির।
এ ছাড়া পটুয়াখালী সদর উপজেলার উত্তর লোহালিয়া শ্রী শ্রী মদন মোহন ঘিউর মন্দির, শ্রী শ্রী মদন মোহন ঘিউর আখড়া মন্দির, উত্তর লোহালিয়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির, নন্দকানাই শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির এবং দুমকি উপজেলার কালিকাপুর সার্বজনীন দুর্গামন্দির এ তালিকায় রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও মতবিনিময়ের এ ধরনের উদ্যোগ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি মন্দিরগুলোর উন্নয়নে প্রস্তাবিত সরকারি বরাদ্দ বাস্তবায়িত হলে ধর্মীয় উপাসনালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে ১৪টি মন্দিরের জন্য বরাদ্দের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশের মাধ্যমে উন্নয়ন উদ্যোগের অগ্রগতি আরও স্পষ্ট হবে।