শুভময় রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের ঢাকা উত্তর মহানগর শাখার সহসভাপতি মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহ্ আলম শানু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুজ্জামান বাদল, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বশার এবং যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি ইমরান শাহিন।
এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আয়োজক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দশমিনা উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে নিবারণ কবিরাজ বাড়ির দিঘিটি। ১৯৪৪ সালে খনন করা এ দিঘিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে নৌকাবাইচের আয়োজন হয়ে আসছে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিবছর এ প্রতিযোগিতা স্থানীয় মানুষের কাছে উৎসবের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়। এ বছর আয়োজনটির ৫৮তম আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় ১০ থেকে ১২টি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ আয়োজনে ‘বাংলার তরী’ প্রথম এবং ‘সোনার তরী’ দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি মাহমুদ হাসান মৃধা। সনি র্যাংয়ের সৌজন্যে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নৌকাবাইচ দেখতে দশমিনা উপজেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ আসেন। দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে দিঘির পাড় ও আশপাশের এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। আয়োজকদের হিসাবে, নৌকাবাইচ উপভোগ করতে প্রায় দেড় লাখ মানুষের সমাগম ঘটে।
নৌকাবাইচ দেখতে আসা অদির চন্দ বলেন, এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে নিবারণ কবিরাজ বাড়ি ও দিঘির আশপাশের এলাকা মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। নৌকাবাইচ শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি দশমিনা উপজেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবছর এ আয়োজন ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, নিবারণ কবিরাজ বাড়ির ঐতিহ্যবাহী দিঘি দশমিনা উপজেলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় ঐতিহ্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও নৌকাবাইচ কমিটির উদ্যোগে এবার উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজনটি সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট আয়োজক ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
স্থানীয়দের মতে, আধুনিক বিনোদনের নানা মাধ্যমের ভিড়েও দশমিনার এ ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ মানুষের মধ্যে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও লোকজ ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ ধরে রেখেছে। নিয়মিত এ আয়োজন অব্যাহত থাকলে নতুন প্রজন্মের কাছে এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য আরও পরিচিত হয়ে উঠবে।