মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা শিশু রায়হান হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তাঁরা বলেন, একটি শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তাঁরা।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কলাপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান শহীদ মাতুব্বর, কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস শফিকুর রহমান টুলু এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের কলাপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল হোসেন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন প্রভাষক তারেক আনাম সুমন, ব্যবসায়ী নেতা মো. বিল্লাল খান কাবুল, সংবাদকর্মী তানজিল জামান জয় ও নাজমুস সাকিবসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। বক্তারা শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
যেভাবে নিখোঁজ হয়েছিল শিশু রায়হান
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় অটোরিকশাচালক মো. রাসেল খানের ১০ মাস বয়সী ছেলে রায়হান। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান পাননি।
এর দুই দিন পর, ১৭ অক্টোবর শনিবার, পার্শ্ববর্তী নাওভাঙ্গা খাল থেকে একটি ব্যাগের ভেতরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয় লোকজন। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নির্ধারণে তদন্তের দাবি ওঠে।
মামলা ও পুলিশের পদক্ষেপ
এ ঘটনায় শিশুটির মা মোসা. আমেনা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ আল আমিন খান (৪৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শিশু রায়হান হত্যার ঘটনায় মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি শিশুটির পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।