এর আগে সকাল ১০টায় আউলিয়াপুর সাবিনা আক্তার মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় পরিবারের সদস্য, সহকর্মী সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত সবাই মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
জানাজার আগে সাংবাদিক সোহরাব হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দ্য ডেইলি স্টারের কনটেন্ট এডিটর মোহাম্মদ আল-আমিন, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। শোকাবহ পরিবেশে তাঁরা প্রয়াত এই সাংবাদিকের কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন।
এ সময় সোহরাব হোসেনের বড় ছেলে আতিকুর রহমান ও ছোট ছেলে সুফিয়ান মোল্লা তাঁদের বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চান। প্রিয়জন ও সহকর্মীদের উপস্থিতিতে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সোহরাব হোসেন। হাসপাতালের মৃত্যু সনদে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিকতায় দীর্ঘ পথচলা
২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি দ্য ডেইলি স্টারে যোগ দেন সোহরাব হোসেন। এরপর থেকে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পটুয়াখালী ও উপকূলীয় অঞ্চলের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছেন তিনি। তাঁর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে স্থানীয় মানুষের জীবনসংগ্রাম, পরিবেশগত সংকট, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা, কৃষি, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো এবং উন্নয়ন প্রকল্পের নানা চিত্র।
পটুয়াখালীর বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় অনুসন্ধান ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। পটুয়াখালী ইপিজেডের জন্য জমি অধিগ্রহণে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকসংকট এবং নির্মাণের পর বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকা সেতুর মতো বিষয় তাঁর প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে।
এ ছাড়া কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনা, উপকূলীয় এলাকার নদীভাঙন, জেলেদের দুর্দশা এবং জলবায়ু ও পরিবেশগত সংকট নিয়েও তিনি সংবাদ প্রকাশ করেছেন। পায়রা বন্দরে বিপুল সরকারি বিনিয়োগের পরও সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার না হওয়ার বিষয়টি নিয়েও সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর অবদান ছিল।
সাংবাদিকতায় পেশাগত দক্ষতা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে দ্য ডেইলি স্টারের সেরা জেলা প্রতিবেদকের পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এই অর্জন তাঁর দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন
সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সোহরাব হোসেন। তিনি পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পেশাগত সম্পর্ক এবং সাংবাদিকতা অঙ্গনে অবদান তাঁকে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পরিচিত করে তুলেছিল।
সোহরাব হোসেনের মৃত্যুতে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং প্রয়াত সাংবাদিকের আত্মার শান্তি কামনা করেন।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে উপকূলের মানুষের কথা তুলে ধরা এই সংবাদকর্মীর মৃত্যুতে পটুয়াখালীর সাংবাদিকতা অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত প্রতিবেদন, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান এবং পেশাগত অবদান সহকর্মী ও পাঠকদের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে।
মরহুম সোহরাব হোসেনের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।