বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে পায়রা নদীতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে পায়রা নদীতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে নদীতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে ইলিশ শিকারের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেন অভিযান পরিচালনাকারীরা। পরে তাদের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও একটি মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মো. মজিবর হাওলাদার (৬২) ও মো. উজ্জ্বল হাওলাদার (২৬)-এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনই বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের বাসিন্দা।
অন্যদিকে, আটক অপর ব্যক্তি মো. সিয়ামের বয়স ১৩ বছর হওয়ায় তাকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার শর্তে তাকে স্বজনদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সিয়ামের বাড়ি পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী এলাকায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে নদীতে অবৈধভাবে মাছ শিকার করা হলে ইলিশের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা এবং নদীতে অবৈধ মাছ শিকার রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
উপজেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণ, নদ-নদীতে অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধ এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর।