দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবে পূজামণ্ডপে ভক্ত, দর্শনার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাগম ঘটে। ফলে উৎসবের আনন্দ নির্বিঘ্ন রাখতে স্বেচ্ছাসেবীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দর্শনার্থীদের চলাচলে সহযোগিতা, ভিড়ের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনের সময় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করা উৎসবের পরিবেশ সুন্দর রাখতে সহায়ক হতে পারে।
পটুয়াখালী জেলা যুবদলের পাঁচটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালনের উদ্যোগকে রাজনৈতিক সংগঠনের সামাজিক অংশগ্রহণের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা যেতে পারে। ধর্মীয় উৎসবে সহযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্য জোরদার করার সুযোগ তৈরি হয়।
সৈয়দ রুমির দিকনির্দেশনায় পরিচালিত এ কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্বশীলতা ও শৃঙ্খলার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ, আয়োজক কমিটির নির্দেশনা অনুসরণ এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত কোনো পরিস্থিতি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবীরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ধর্মীয় উৎসবে সহযোগিতা করা সামাজিক সম্প্রীতির একটি ইতিবাচক চর্চা। একটি বহুত্ববাদী সমাজে প্রত্যেকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উৎসব পালনের অধিকারকে সম্মান জানানো সবার দায়িত্ব। এ ধরনের উদ্যোগ তখনই আরও অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তা মানুষের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত করতে বাস্তব অবদান রাখে।
পটুয়াখালী জেলা যুবদলের এ উদ্যোগের মাধ্যমে পূজামণ্ডপগুলোতে দায়িত্ব পালনকারী স্বেচ্ছাসেবকেরা সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে সহযোগিতা করবেন—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে উৎসবকে কেন্দ্র করে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় হোক, এটাই প্রত্যাশা।