কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ও পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং একটি মণ্ডপে প্রবেশের সড়ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
রোববার রাতে কলাপাড়া উপজেলার ১৭টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরিদর্শনকালে উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের ভাটবাড়ী স্কুল পূজামণ্ডপে গেলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন সংসদ সদস্য। এ সময় মণ্ডপে যাতায়াতের সড়ক নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এতে পূজামণ্ডপে যাতায়াতের সুবিধা ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার নাসির উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মহসীন, পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মো. ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান কাজল তালুকদার এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হারুন-অর রশিদসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দলীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীর সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের জন্য শাড়ি উপহার দেওয়া হয়। এর মধ্যে কলাপাড়ার জন্য ২৪০টি এবং রাঙ্গাবালীর জন্য ৬০টি শাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া কলাপাড়া উপজেলার ১৭টি এবং রাঙ্গাবালী উপজেলার ছয়টি মন্দিরে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। প্রতিটি মন্দিরকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। সে হিসাবে দুই উপজেলার মোট ২৩টি মন্দিরে সর্বমোট ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।
ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে শাড়ি ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ এবং পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের এ কর্মসূচিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি মন্দিরগুলোর আয়োজন ও স্থানীয় সমস্যার বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হয়।
কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এ ধরনের সহযোগিতা পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর আয়োজনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।