সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পটুয়াখালী পৌরসভা সম্মেলন কক্ষে ‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় সরকার, প্রশাসন ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যুবদের সংলাপ ও অ্যাডভোকেসি সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। সভায় নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ মোকাবিলা, নারীবান্ধব ও নিরাপদ নগর পরিবেশ গড়ে তোলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে করণীয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ বাস্তবায়নে এবং ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহযোগিতায় প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে।
সভায় বক্তারা বলেন, সমাজে নারী ও পুরুষের ভূমিকা নিয়ে প্রচলিত বৈষম্যমূলক ধারণা পরিবর্তনে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে শুধু সচেতনতামূলক প্রচার নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
আলোচনায় পটুয়াখালী পৌরসভার ঝাউতলা ওয়াকওয়েকে নারী, শিশু, প্রবীণসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ওয়াকওয়েতে সবার নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা মনে করেন, জনপরিসরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনের একক দায়িত্ব নয়; এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার, নাগরিক সমাজ, যুব সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর পরিবেশ গড়ে তুলতে তরুণদের উদ্যোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভায় গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধে জেলা পর্যায়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী ব্রিগেড গঠনের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে যুবদের তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি, যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য প্রচারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং দায়িত্বশীল তথ্য প্রচারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, গুজব ও অপতথ্য সামাজিক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই কোনো তথ্য প্রচার বা শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
এ ছাড়া পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নেতৃত্বের বিকাশ, যোগাযোগ দক্ষতা এবং অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুবদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পৌরসভার নাগরিক সেবা, নগর উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জননিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্যোগে তরুণদের সম্পৃক্ত করা গেলে স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ও পটুয়াখালী পৌরসভার পৌর প্রশাসক তারেক হাওলাদার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর মেডিকেল অফিসার ডা. এস এম একরামুল নাহিদ, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা ভবানী শংকর সিনহা, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শারমিন সুলতানা, পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি হাসিবুর রহমান, ইয়ুথ পাওয়ার পটুয়াখালীর সভাপতি কে এম জাহিদ, ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের ফোকাল ও ধুমকেতু ইয়ুথ ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাওসার আহমেদ ইবু, আদর্শ মানবসেবা সংস্থার প্রতিনিধি মাসুদ রানা শিবলী এবং পল্লী যুব মহিলা উন্নয়ন সংস্থার সভানেত্রী শারমিন আক্তার।
এ ছাড়া পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের নির্বাহী পরিচালক জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রিফাত, রিসোর্স পার্সন এবং ইয়ুথ ফোরাম, ভিবিডি ও বিডিক্লিনের সদস্যরা সভায় অংশ নেন।
সভায় আলোচিত বিষয়গুলোর বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও যুব সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ জনপরিসর নিশ্চিত করা এবং অপতথ্য প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত যৌথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তরুণদের সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করা সম্ভব। এর ফলে পটুয়াখালীতে বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও সচেতন সমাজ গঠনের পথ আরও সুগম হবে।