বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টায় উপজেলার ধানখালী মহের উদ্দিন (এমইউ) মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্রামীণ নারী কৃষকদের উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রদর্শন করা হয়। এ সময় বিদ্যালয় মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কৃষিপণ্যের মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি, পুষ্টি ও গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল—‘গ্রামীণ নারীর উত্থান: বেইজিং+৩০-এর সাথে টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ি’। পাশাপাশি ‘আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি’ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রামীণ কৃষিতে নারীদের অবদান, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর জোর দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আভাসের সিআরএফএম প্রকল্পের কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রিণা আক্তার। এ ছাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাছলিমা আখতার, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সংশ্লিষ্টরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় গ্রামীণ অর্থনীতি ও খাদ্য উৎপাদনে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। কৃষিকাজ থেকে শুরু করে পরিবারের খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অবদান গ্রামীণ সমাজের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নারী কৃষকদের কাজের স্বীকৃতি, তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত কৃষিপণ্যের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
আয়োজকদের উদ্যোগে কৃষিপণ্যের মেলার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙা খেলাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তি আনন্দের সৃষ্টি করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান ঘিরে বিদ্যালয় মাঠ এলাকায় প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করে। মেলায় গ্রামীণ নারীদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে তাঁদের শ্রম, দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গ্রামীণ নারীদের কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করা এবং পুষ্টিসম্মত খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের আয়োজন নারীদের অবদানকে সামনে আনার পাশাপাশি কৃষি, পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।