বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীসহ উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অংশ নেয় কোস্টগার্ডের রাঙ্গাবালী আউটপোস্ট ও রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ। অভিযানের একপর্যায়ে বঙ্গোপসাগরের মোহনা এলাকায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ আহরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আদালত প্রত্যেককে ১৬ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই অভিযানে ইলিশ শিকারে ব্যবহৃত একটি মাছ ধরার ট্রলার ও দুই হাজার ৪০ মিটার জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জাল পরে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে সরকার ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ সময়ে নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় ইলিশ শিকার বন্ধ রাখতে প্রশাসন, নৌ-নিরাপত্তা বাহিনী এবং মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভিযান ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
মৎস্যসম্পদ রক্ষা এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় আইন অমান্য করে মাছ ধরার কারণে মা ইলিশের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়জুড়ে নদ-নদী ও উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাঙ্গাবালীতে রাতভর এ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজার ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের তৎপরতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে জেলেদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।