মো. মাসুম বিল্লাহ জাতীয় দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকার বাউফল উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ‘Bauphal News ২৪’ নামের একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে স্থানীয় বিভিন্ন ঘটনা ও সংবাদচিত্র প্রকাশ করেন তিনি। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সূত্র ধরে প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বিরোধের সূত্রপাত হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর বিরোধের অভিযোগ
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বাউফল উপজেলার শৌলা এলাকায় ‘জোরপূর্বক শিবির নেতার বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ। পরে ‘খবর বাউফল’ ও ‘বাউফল টুডে’ নামের ফেসবুক পেজেও সংবাদটি প্রচারিত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, গত ১৭ আগস্ট রাত ১০টা ৪৯ মিনিটের দিকে মামলার দুই নম্বর আসামি মো. আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে তাঁকে কল করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ছাড়া তিন নম্বর আসামি মো. ইমরান খানের ফেসবুক আইডি ও বিভিন্ন পেজ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য ও হুমকি প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো, সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বাদীর দাবি, ‘চাঁদাবাজি’ শিরোনামে প্রচারিত ভিডিওটির বক্তব্য মিথ্যা, বানোয়াট ও মানহানিকর। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর পেশাগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
থানায় জিডির পর সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা
মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনার পর সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর ৯৭০, তারিখ ১৯ আগস্ট ২০২৬। পরবর্তী সময়ে গত ৪ অক্টোবর তিনি বরিশাল সাইবার ট্রাইব্যুনালে সাইবার পিটিশন মামলা নম্বর ২৬২/২০২৬ দায়ের করেন।
মামলায় সরাসরি চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মো. তরিকুল ইসলাম ফাহিম (২৬), মো. আমিনুল ইসলাম (৩২), মো. ইমরান খান (৩৫) এবং মো. আবুল কালাম হাওলাদার ওরফে কালু (৬৫)। মামলায় আবুল কালাম হাওলাদারকে প্রধান প্ররোচনাকারী ও ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাদী। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের দাবি
বাদীপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত আইডির প্রকৃত ব্যবহারকারী শনাক্ত করা, ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ এবং আইপি লগ, লগইন হিস্ট্রি ও মেটাডেটা বিশ্লেষণের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
আদালতের নির্দেশে মামলাটি বর্তমানে পটুয়াখালী জেলা সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে বলে মামলার সূত্রে জানা গেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।