বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, পটুয়াখালীর যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহসিন উদ্দিন। প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এস এম ফজলুল করিম, জেলা অন্ধ কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোস্তাক আহমেদ পিনু, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান, ডা. রুহুল আমিন, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলহাজ আলতাফ হোসেন খান এবং অ্যাডভোকেট আবুল কালাম।
গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে বক্তব্য দেন দৈনিক গণদাবী সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, দৈনিক সাথী সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও সাংবাদিক আবদুস সালাম আরিফ। এ সময় স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা
অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসে জেলা অন্ধ কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোস্তাক আহমেদ পিনুর বক্তব্যে। তিনি জানান, এখন থেকে পটুয়াখালী বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল ও মেডিসিন হাসপাতালে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যাবতীয় চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। এ উদ্যোগ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন। প্রয়োজনীয় সহায়তা, উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তাঁরাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। তাঁদের দৈনন্দিন চলাচল সহজ ও নিরাপদ করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট হোয়াইট ক্যান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতার পাশাপাশি তাঁদের অধিকার, মর্যাদা ও স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ করতে পরিবার, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তাঁদের শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাও জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্ষমতা বিকাশে সহায়ক উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি তাঁদের জন্য নিরাপদ ও প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা উপস্থিত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হাতে স্মার্ট হোয়াইট ক্যান তুলে দেন। দিবসটির আয়োজনের মধ্য দিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল, চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি এবং সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পায়। তাঁদের জন্য সহায়ক পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান সংশ্লিষ্টরা।