বুধবার (১৪ অক্টোবর) কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিদায়ী অধ্যক্ষের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তাঁর অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
কলেজের নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রশিদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ডা. মো. নুরুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সোহরাব হোসেন মিয়া এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইখতিয়ার রহমান কবির।
অনুষ্ঠানে কলেজের প্রয়াত পাঁচ শিক্ষককে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন—কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক অধ্যক্ষ মো. ইউসুফ মিয়া, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. কামাল হোসেন, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক রামানন্দ দেবনাথ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. জাহাঙ্গীর কবির এবং কৃষিশিক্ষা বিভাগের প্রদর্শক মো. আ. হালিম। তাঁদের অবদান স্মরণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় তাঁদের ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বিদায়ী অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানের কর্মজীবন ও অবদান নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যক্ষ মো. গিয়াস উদ্দিন, সহকারী অধ্যাপক মুজাহিদুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ও সিনিয়র সাংবাদিক মো. হারুন অর রশিদ এবং আবু হেনা মো. শোয়েব। এ ছাড়া কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা. নুর নাহারও স্মৃতিচারণে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী রাইসা মনি বিদায়ী অধ্যক্ষের উদ্দেশে একটি মানপত্র পাঠ করেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতি সম্মান জানিয়ে আয়োজিত এ পর্বে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম। দোয়া পরিচালনা করেন ইসলাম শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আউয়াল।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বিদায়ী অধ্যক্ষ মো. শাহজাহানকে নিয়ে একটি ফিচার নিউজের বাঁধাই করা ফ্রেম তাঁর হাতে তুলে দেন গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও কলামিস্ট নিয়ামুর।
দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অধ্যক্ষের বিদায় এবং প্রয়াত শিক্ষকদের মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান—দুই আয়োজনের মধ্য দিয়ে গলাচিপা মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকতা ও শিক্ষাসেবার অবদানকে স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিরা বিদায়ী অধ্যক্ষের ভবিষ্যৎ জীবনের মঙ্গল কামনা করেন।