পটুয়াখালীতে স্বামীর বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মোসাঃ রেশমা আক্তার। বুধবার (১৪ অক্টোবর) পটুয়াখালীর একটি স্থানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বামী রাকিব সিকদারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের জন্য প্রশাসন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগকারী রেশমা আক্তার পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবা মোঃ শহিদ হাওলাদার। অভিযুক্ত রাকিব সিকদার পটুয়াখালীর কমলাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ইদ্রিস সিকদারের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে রেশমা আক্তার অভিযোগ করেন, রাকিবের সঙ্গে দুই বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২২ সালের ৭ আগস্ট স্থানীয় এক ইমামের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়েতে দুই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের পর তাঁদের দাম্পত্য জীবন ভালোভাবেই চলছিল।
রেশমার দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় তাঁর স্বামী চাকরির জন্য ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ওই সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। সুস্থ হওয়ার পর জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তি হিসেবে সরকারি ভাতা পাওয়ার পর থেকে তাঁর আচরণে পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ করেন রেশমা।
তিনি বলেন, এরপর থেকে রাকিব বিভিন্ন সময় তাঁকে মারধর করতেন এবং ব্যক্তিগত কাজের জন্য বাবার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা এনে দিতে চাপ দিতেন। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। একপর্যায়ে রাকিব তাঁর পরিবারের সদস্যদের ফোন করেও টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রেশমা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে রাকিব তাঁকে আর সংসারে রাখতে চান না বলে জানান। সংসার করতে হলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলেও দাবি করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন বলে অভিযোগ রেশমার।
সংবাদ সম্মেলনে রেশমা আরও অভিযোগ করেন, সালিশ বৈঠকে রাকিব নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে বলেন, তাঁকে কেউ কিছু করতে পারবে না। এমনকি আইন-আদালত জুলাই যোদ্ধারাই পরিচালনা করেন—এমন বক্তব্য দিয়ে টাকা না দিলে স্ত্রীকে ঘরে ফিরিয়ে নেবেন না বলেও জানান। এসব ঘটনার সাক্ষী রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে বাবার বাড়িতে চলে যান রেশমা। পরে আদালতে সিআর মামলা (নং ১১৪৩/২০২৫) দায়ের করেন। তবে তাঁর অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও রাকিব আদালতে হাজির হননি। পাশাপাশি সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আদালতে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রেশমা আক্তার বলেন, “আমি অসহায় অবস্থায় বাবার বাড়িতে দিন কাটাচ্ছি। জুলাই যোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করে আমার ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে আমি অভিযোগ করছি। আমি প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাকিব সিকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এটা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে, তাই কোনো কথা বলতে পারব না।”
রেশমা আক্তার অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের দাম্পত্য জীবনের অধিকার ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।