দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। র্যালির মাধ্যমে বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। পরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করা, তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাল্যবিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। এর ফলে কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাভাবিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ নানা ধরনের বাধার মুখে পড়ে। একটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হলে তার শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে পরিবার, সমাজ এবং প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করতে পরিবার থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। সন্তান ছেলে হোক কিংবা মেয়ে—সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কন্যাশিশুর পড়াশোনা অব্যাহত রাখা, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বন্ধে অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রচলিত আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে কোনো কন্যাশিশু যেন বাল্যবিয়ের শিকার না হয়, সে জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তাঁদের মতে, কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা শুধু একটি দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং সারা বছরই এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। কন্যাশিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করা, নিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং তাদের প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার মাধ্যমে একটি মানবিক ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
সমাবেশে বাল্যবিয়েমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিটি কন্যাশিশুর জন্য মর্যাদাপূর্ণ, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা এবং প্রশাসনের সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে কার্যকর অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে।
জাতীয় কন্যা শিশু দিবসের এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং তাদের স্বপ্নপূরণের সুযোগ তৈরিতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি আবারও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।