মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত ভবনের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক।
সভায় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা, সদস্য সচিব মো. আলতাফ হোসেন খান, সহসভাপতি মো. সোহরাব মিয়া, গণঅধিকার পরিষদের উপজেলা আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান, পটুয়াখালী জেলা যুব অধিকার পরিষদের সহসভাপতি মো. মহিবুল্লাহ এনিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া গলাচিপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার, উপজেলা ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও ভিডিপির প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাংবাদিকেরা সভায় অংশ নেন।
সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্য দেন গলাচিপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার। তিনি জানান, উপজেলার ২৯টি পূজামণ্ডপের মধ্যে ১০টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব মণ্ডপে বাড়তি নজরদারি রাখা হবে। পূজা শুরু হওয়ার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সার্বক্ষণিক মোবাইল টিম সচল থাকবে।
তিনি পূজার সময় নিরাপত্তা বজায় রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি বাড়িঘর একেবারে ফাঁকা না রেখে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি পূজামণ্ডপে আগুন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্ব দেন। যেকোনো অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফায়ার সার্ভিসের যোগাযোগ নম্বর হাতের কাছে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কোথাও আগুন বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক প্রতিটি পূজামণ্ডপে সিসি ক্যামেরা সচল রাখা, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
তিনি জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল এবং ১০টি করে টি-শার্ট প্রদান করা হবে। পূজার আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও সভায় জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতামূলক উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা অব্যাহত থাকলে এ বছর গলাচিপায় কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ছাড়াই আনন্দঘন পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল এবং পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকলে উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে দুর্গাপূজা উদযাপনে সবার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।