নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিবাসনপ্রত্যাশী ও বিদেশফেরত কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে জেলা অভিবাসন সমন্বয় কমিটির (DMCC) কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত PROTTASHA-II প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলায় প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা রাইটস যশোর। সভায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট সেবার মানোন্নয়ন এবং বিদেশফেরত অভিবাসীদের পুনঃএকত্রীকরণে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মহসিন উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল। এ ছাড়া জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক শাহরিয়ার হাসান, প্রবাসী কল্যাণ কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ কামরুজ্জামানসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় PROTTASHA-II প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পটুয়াখালী জেলায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রদান এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বিদেশে যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যথাযথ দিকনির্দেশনা দেওয়া গেলে প্রতারণা ও অনিয়মের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি বৈধ পথে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
সভায় বিদেশফেরত অভিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনঃএকত্রীকরণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বিদেশ থেকে ফিরে আসা কর্মীরা যাতে প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ ও প্রাসঙ্গিক সেবা পেতে পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত ভূমিকার ওপর জোর দেন অংশগ্রহণকারীরা। পাশাপাশি রেমিট্যান্সের সঠিক ব্যবহার এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বক্তারা মনে করেন, জেলা অভিবাসন সমন্বয় কমিটি (DMCC) সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। কমিটির কার্যক্রম আরও গতিশীল ও প্রাতিষ্ঠানিক করার মাধ্যমে অভিবাসনপ্রত্যাশী এবং বিদেশফেরত কর্মীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা প্রদানের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, অংশীজনদের দায়িত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র এবং জেলা পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন উপস্থিত প্রতিনিধিরা। তাঁরা নিরাপদ অভিবাসনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান এবং বিদেশফেরত অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংশ্লিষ্টদের আশা, PROTTASHA-II প্রকল্পের কার্যক্রমের মাধ্যমে পটুয়াখালীতে জেলা অভিবাসন সমন্বয় কমিটির কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে। এর ফলে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট সেবার সমন্বয় এবং বিদেশফেরত অভিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনঃএকত্রীকরণে জেলা পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পথ আরও সুগম হবে।