মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ‘ঘর থেকেই শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’ স্লোগানকে সামনে রেখে দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় অংশীজনেরা অংশ নেন।
সকালে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা পরিষদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
আগাম প্রস্তুতিই পারে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে রাঙ্গাবালী উপজেলার মানুষকে প্রায়ই বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের মতো দুর্যোগ মানুষের জীবন-জীবিকা, বসতবাড়ি ও সম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এসব দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দুর্যোগের সময় সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
তাঁরা আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা সম্পর্কে সচেতন থাকা, পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা নেওয়া প্রয়োজন।
পারিবারিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব
আলোচনা সভায় বক্তারা পারিবারিক পর্যায়ে দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁদের মতে, দুর্যোগের আগাম সংকেত যথাযথভাবে অনুসরণ করা এবং সময়মতো নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা, আগাম সতর্কবার্তা সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
বক্তারা মনে করেন, দুর্যোগ সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে পরিবার, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। সচেতনতা ও প্রস্তুতির চর্চা বাড়ানো গেলে দুর্যোগের সময় আতঙ্ক কমিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হবে।
দুর্যোগ সহনশীল রাঙ্গাবালী গড়ার প্রত্যয়
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসের কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দুর্যোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবারভিত্তিক প্রস্তুতি জোরদার করার বার্তা তুলে ধরা হয়। উপকূলীয় জনপদ রাঙ্গাবালীতে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কতা, জনসম্পৃক্ততা ও কার্যকর প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
সংবাদ ক্যাটাগরি: পরিবেশ / দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা / পটুয়াখালী।